meghna
bangladesh-bank

বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে চলতি অর্থ-বছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানু-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। রবিবার (১৫ জানুয়ারি) অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

meghna

মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে নীতি সুদহার আরেক দফা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতির বাড়তি চাপ সামাল দিতে বাজারে অর্থপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকে নীতি সুদহার নির্ধারিত হবে ৬ শতাংশ। এতদিন যা ছিল ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি ঋণের সুদহার পুরোপুরি তুলে না দিলেও ভোক্তাঋণে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ সুদ নিতে পারবে ব্যাংকগুলো। সেই সঙ্গে আমানতের সুদ হারের সীমা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রেপো সুদ হার বিদ্যমান বার্ষিক শতকরা ৫ দশমিক ৭৫ ভাগ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে শতকরা ৬ ভাগে পুনঃনির্ধারণ করা হলো। রিভার্স রেপো সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪.২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ লক্ষ্য একই রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আগামী জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। জুলাই-ডিসেম্বরের মুদ্রানীতিতেও যা ছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। একইসময়, আগের ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরকারি ঋণের সীমা ৩৭.৭ শতাংশ করা হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থ-বছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গত কয়েক বছর ধরে এক অর্থবছরে একটি মুদ্রানীতিই ঘোষণা করা হতো। কিন্তু অর্থনীতিতে চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের প্রথম কিস্তির টাকাটা যাতে ফেব্রুয়ারি মাসেই পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে বছরে দুটি মুদ্রানীতি ঘোষণার আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদের হারের নীতি বজায় রেখেছে।

দেশের স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক চিত্রকে স্থিতিশীল বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সঙ্গে এটাও বলেছে যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেরল রিজার্ভের নীতি সুদহার বৃদ্ধির উদ্যোগ, কোভিড-১৯ এর পুনঃবিস্তার এবং চীনে সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতির মতো বাহ্যিক ঘটনাগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।


এম/এস

meghna

আরও পড়ুন


meghna