meghna
3132

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে রুশ কর্মকর্তারা ‘তাঁদের সমাজকে প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন’। তবে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত আছে বলে তিনি মনে করেন না।

meghna

নিজ কার্যালয়ে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। রাশিয়ার ওপর হামলা চালানোর আহ্বান জানানোর বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তিনি। জেলেনস্কির দাবি, তাঁর করা মন্তব্যের ভুল অনুবাদ করা হয়েছিল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আপনাকে অবশ্যই প্রতিরোধমূলক আঘাত করতে হবে’ কথাটি নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘হামলা নয়’।

বিবিসিকে জেলেনস্কি ইংরেজিতে বলেন, তাঁরা (রুশ কর্মকর্তারা) তাঁদের সমাজকে প্রস্তুত করতে শুরু করেছে। এটা খুবই ভয়ানক ব্যাপার।

জেলেনস্কি বলেন, তাঁরা এটা (পারমাণবিক হামলা) করতে, (পারমাণবিক অস্ত্র) ব্যবহার করতে প্রস্তুত নয়। কিন্তু তাঁরা এ নিয়ে কথাবার্তা বলতে শুরু করেছেন। তাঁরা জানেন না এটা কোথায় ব্যবহার করবেন বা কোথায় করবেন না। আমি মনে করি, এটা নিয়ে কথা বলাটাও ভয়ংকর।

এরপর একজন ইউক্রেনীয় দোভাষীর মাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, আমরা দেখি, রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকা লোকজনও জীবনকে পছন্দ করেন। সেই হিসাবে আমি মনে করি, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি ততটা সুনির্দিষ্ট নয়, যেমনটি কিছু বিশেষজ্ঞও বলেছেন। কারণ, তাঁরা জানেন এটা ব্যবহার করে ফেলার পর পিছু হটার সুযোগ নেই—না তাঁদের দেশের ইতিহাসে, না নিজেরা ব্যক্তি হিসেবে।

গত বৃহস্পতিবার অনলাইন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাশিয়ার ওপর হামলা চালানোর আহ্বানের বিষয়টি অস্বীকার করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, যে ইউক্রেনীয় শব্দ তিনি ব্যবহার করেছেন, সেটাকে ভুলভাবে নেওয়া হয়েছে।

জেলেনস্কির ওই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সেটাকে ‘আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আবেদন’ হিসেবে অভিহিত করেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, এতে প্রমাণিত হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান চালানোটা কেন সঠিক।

কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র–সংকটের পর বিশ্ব প্রথমবারের মতো মানবসভ্যতা-বিধ্বংসী পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে (আরমাগেডন) পড়েছে বলে বৃহস্পতিবার মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর বিবিসি জেলেনস্কির এ সাক্ষাৎকার নেয়।

জেলেনস্কি বলেন, এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, রাশিয়ার হুমকি ‘গোটা বিশ্বের জন্য ঝুঁকির’। তিনি দাবি করেন, জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে মস্কো এ পথে ‘ইতিমধ্যে এক ধাপ এগিয়েছে’।

ইউরোপের সর্ববৃহৎ এ পারমাণবিক কেন্দ্রকে রাশিয়ার মালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জেলেনস্কি বলেন, সেখানে প্রায় ৫০০ রুশ সেনা রয়েছেন। যদিও ইউক্রেনীয় কর্মীরাই এখনো সেটি পরিচালনা করছেন।

জেলেনস্কি বলেন, বিশ্ব জরুরি ভিত্তিতে রুশ দখলদারদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং তাঁদেরকে পারমাণবিক কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য করতে সবকিছু করতে পারে।

meghna

আরও পড়ুন


meghna