meghna
---

রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের ৪টি অঞ্চলের গণভোটের ফলাফলে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পক্ষে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া গেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, চার অঞ্চলে গণ ভোটের প্রাথমিক গণনায় দেখা যায়, ৯৬ শতাংশেরও বেশি ভোটার রাশিয়ার শাসনাধীনে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

meghna

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে রুশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ৭ মাসে কিয়েভের কাছ থেকে বেশকিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাশিয়া। সেসব অঞ্চলে রাশিয়ার তত্ত্বাবধানে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল প্রকাশ হয় মঙ্গলবার।

তবে, রশিয়া আয়োজিত এই গণভোট প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেনসহ তার পশ্চিমা মিত্ররা। পশ্চিমা দেশগুলো এই গণভোটকে প্রহসন বলে আখ্যা দিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসনে তড়িঘড়ি করে গণভোটের আয়োজন করে রাশিয়া। এই অঞ্চলগুলো ইউক্রেনের সমস্ত ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ নিয়ে গঠিত।

লুহানস্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে এ অঞ্চলে ভোট পড়েছে ৯৮.৪ শতাংশ। জাপোরিঝঝিয়ায় নিয়োজিত রুশ প্রশাসন জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের ৯৩.১ শতাংশ ভোটার রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

অন্যদিকে, খেরসনের ভোট গ্রহণ কমিটির প্রধান বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে সেখানে 'হ্যাঁ' ভোট পড়েছে প্রায় ৮৭ শতাংশ। স্বঘোষিত দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের প্রধান ডেনিস পুশিলিন বলেছেন, এই অঞ্চলের ৯৯.২ শতাংশ ভোটার রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

চার অঞ্চলের সব ভোটই গণনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ টেলিগ্রামে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় লিখেছেন, "গণভোট শেষ হয়েছে এবং এর ফলাফল পরিষ্কার। রাশিয়ায় আপনাদের স্বাগত জানাই!"

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চার অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত মানুষ রাশিয়ার আয়োজিত গণভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, প্রাথমিক গণনার ভিত্তিতে ৯৬ শতাংশেরও বেশি ভোটার রাশিয়ার শাসনাধীনে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এদিকে, গণভোটের পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেন মস্কোকে বারবার সতর্ক বার্তা দিয়ে আসলেও তাতে কর্ণপাত করেনি রাশিয়া। রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো রাশিয়ার ভূখণ্ডের সঙ্গে অধিভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হলে, তা যেকোনো ধরনের শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে নষ্ট করবে বলে সর্তক করেছে ইউক্রেন। সেইসঙ্গে, আরও সতর্ক করা হয়েছে, যেসব ইউক্রেনীয়রা রাশিয়াকে গণভোট আয়োজনে সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ আনা হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে এই অঞ্চলগুলোকে শীঘ্রই রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিতে পারেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুতিনের এই ঘোষণা আসতে পারে শুক্রবারেই (৩০ সেপ্টেম্বর)। এইদিন পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া রাশিয়ার অধিভুক্ত হওয়ার সময়ও অনেকটা একই ধরনের গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। সে সময় ক্রিমিয়ার নেতারা বলেছিলেন, ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাশিয়ায় যোগদানের পক্ষে ৯৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, এই ভোট জাতিগতভাবে এবং ভাষাভাষীর দিক দিয়ে রুশ জনগোষ্ঠীকে ইউক্রেনীয়দের নিপীড়ন থেকে রক্ষা করবে। মূলত এ কারণেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

"যে সমস্ত অঞ্চলে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানকার মানুষদের বাঁচানো আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রয়েছে এবং আমাদের সমগ্র সমাজ ও দেশের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হলেন তারা," বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।

 

সূত্র: রয়টার্স 

meghna

আরও পড়ুন


meghna