meghna
gggg

প্রতিটি জেলায় সরকারের পক্ষে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি ও সায়রাতের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন কালেক্টর। সরকারের পক্ষে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার সব দায়িত্ব-ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান, অর্পিত সম্পত্তির ইজারা প্রদান, জলমহাল ইজারা প্রদান, পরিত্যক্ত সম্পত্তির ইজারা প্রদান, সরকারি সংস্থার ভূমি অধিগ্রহণ ইত্যাদি কার্যক্রম জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

meghna

ভূমি ব্যবস্থাপনার এই সেবাগুলো সময়সাপেক্ষ হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে একটি সুবিধাবাদী শ্রেণির উদ্ভব হয়। তাছাড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য ভূমির ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দিন দিন কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এছাড়াও সরকারি খাস জমি, ভিপি জমি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, জলমহাল, হাটবাজার ইত্যাদি অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে।

আবহমান কাল থেকেই দেশের ভূমিসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে জটিলতা পরিলক্ষিত হয়। জেলা প্রশাসনের স্বল্পসংখ্যক জনবল দ্বারা এত বিশাল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও রাজস্ব আদায় দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমিজমা ব্যক্তিপর্যায়েও রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় একটি বিজ্ঞানসম্মত ডাটাবেজ তৈরি জরুরি হয়ে পড়েছিল।

দেশে প্রথম সরকারি সম্পত্তির ছবিযুক্ত ডাটাবেজ তৈরি সম্পন্ন হয়েছে খুলনায়। সম্প্রতি নয়টি উপজেলার অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, হাটবাজার, খাস জমি এবং জলমহালের ছবিযুক্ত ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি স্বার্থরক্ষা এবং ভূমি ও সায়রাত ব্যবস্থাপনা (ভূমি তথ্য ব্যাংক) সফটওয়্যারের মাধ্যমে ই-সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

ছবিযুক্ত ডাটাবেজ তৈরির ফলে ভূমি নিয়ে জটিলতার নিরসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এটি দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। বন্ধ হবে মিথ্যা মামলা ও অবৈধ দখল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-শতভাগ ভূমির রাজস্ব আদায় এবং সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলদারমুক্ত করতে ডিজিটাল ছবিযুক্ত ডাটাবেজ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

দ্রুততম সময়ে নাগরিক সেবা প্রদান এবং সব ক্ষেত্রে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এই পরিবর্তিত ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ে সরকারের মুখ্য প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেন। তাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সব কাজে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নততর সেবা প্রদানের লক্ষ্যে খুলনার জেলা প্রশাসক এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ই-সেবার মাধ্যমে দুর্নীতি বন্ধ করে খুলনা জেলার সার্বিক ভূমিব্যবস্থাকে অনলাইন প্ল্যাটফরমে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ লক্ষ্য সামনে রেখে এ ডাটাবেজকে কাজে লাগিয়ে অর্থাৎ আর্কাইভ করে ভূমি ও সায়রাত ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে টেকসই ই-সেবা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়। খুলনা জেলার অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, হাটবাজার, খাস জমি ও জলমহালসহ ভূমিসেবা সংক্রান্ত সব শাখাকে ডিজিটাল শাখায় রূপান্তর করা হয়।

এ সফটওয়্যারে রিপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে জমির অবস্থান, লিজকৃত মূল্য, বর্তমান ইজারাদার, জমির শ্রেণি, লিজের মেয়াদ এবং সরকারি পাওনা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নদ-নদীসহ সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পত্তির অবৈধ দখলমুক্তকরণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক পরিবেশের মানোন্নয়ন হবে। ডাটাবেজটি তৈরির ফলে তা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) কিছু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

অনলাইন সেবার প্রতি গুরুত্বদানের মাধ্যমে পেপারলেস অফিস ও ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি শাখায় পর্যাপ্তসংখ্যক কম্পিউটার, স্ক্যানার, প্রিন্টার সরবরাহ করা হয়েছে এবং ইনডোর ডেকোরেশনের মাধ্যমে কর্ম পরিবেশের আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং কর্মচারীদের কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথি সংরক্ষণ একটি স্থায়ী পদ্ধতি। ফলে সাধারণ নথি বিনষ্ট হলেও সফটওয়্যারের আর্কাইভকরণের মাধ্যমে নথির স্থায়ী সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে। উদ্যোগটি সারা বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় সহজে বাস্তবায়নযোগ্য এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি মাইলফলক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ও টেকসই ভূমিকা রাখবে।

সারোয়ার আহমেদ সালেহীন : সরকারি কর্মকর্ত

meghna

আরও পড়ুন


meghna