meghna
coxbazar-tourist-1

চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের আট মাস শেষে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ভ্রমন খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে রেকর্ড প্রায় ১৪১ শতাংশ। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

meghna

করোনাভাইরাস মহামারির নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশের পর্যটন শিল্প বের হয়ে আসছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ভ্রমণ কর আদায়ে।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভ্রমণ করের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪৫৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। যেখানে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের একই সময়ে কর আদায় হয়েছিল ১৮৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৪০ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এর মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কর আদায় হয় ৯২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যেখানে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর আদায় হয় ৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আর চলতি অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমন কর বাড়তে শুরু করেছে। গত ডিসেম্বর থেকেই পর্যটক বাড়তে শুরু করেছিল। তবে জানুয়ারি থেকে আবার কঠোর বিধিনিষেধ পেরিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ কর আদায় হয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

পর্যটন খাতে সবচেয়ে খারাপ সময় গেছে বিগত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে। ওই বছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭১৪ কোটি ৭ লাখ টাকা কম কর আদায় হয়। সেই সময় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের নেতিবাচক প্রভাবে ভ্রমণ কর কমে প্রায় ৬৪ শতাংশ।

এনবিআরের হিসাব অনুসারে, ওই অর্থবছরে এক হাজার ৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ২২৫.৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩২ শতাংশ আদায় হয়। যদিও এর আগের (২০১৯-২০২০) অর্থবছরে তুলনামূলক বেশ ভালো রাজস্ব আদায় হয়। সে বছরে ৯৩০.৯৬ কোটি টাকার ভ্রমণ কর আদায় হয়েছিল।

অন্যদিকে আট মাস শেষে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) প্রায় ১৫.২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে এনবিআর তার লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এনবিআর থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, অর্থবছরের আট মাসে এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৫৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এ সময়ে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ২২.৭৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে শুল্ক আদায় হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৭৭৬ কোটি ৪ লাখ টাকা।

অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে মূসক বা ভ্যাট বাবদ এনবিআর সংগ্রহ করেছে ৬৬ হাজার ৩৭৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৫৯ হাজার ৯৮৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১০.৬৫ শতাংশ।

আর আয়কর বাবদ জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর আদায় করে ৫৩ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৩.৭২ শতাংশ হলেও ঘাটতি ৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ এক লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন হয়। সামনের দিনগুলোতে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে আয়কর ও ভ্রমন করের লক্ষ্যমাত্রা ফূরণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


এম/এস

meghna

আরও পড়ুন


meghna